সচিবালয়ের সাথে সকল দপ্তরের কর্মচারীদের পদবী ও বেতন বৈষম্যের অবসান চাই-করতে হবে।

প্রিয় কর্মচারী ভাই ও বোনেরা,

সংগ্রামী শুভেচ্ছা গ্রহন করুন। আপনারা অবহিত আছেন যে, সুবিধা বঞ্চিত কর্মচারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশের বৃহত্তম গণ কর্মচারী সংগঠন বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয়  পরিষদ  বিগত ৩০ বছর যাবত আপোষহীন ভূমিকা পালন করে আসছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব মরহুম সালেহ বিন সেলিমের স্বপ্ন ছিলো এদেশের নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের মুখে হাসি ফুটানো। সে লক্ষ্যে তিনি আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেকে উৎসর্গ করে গেছেন। তাঁর বর্নাঢ্য সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় গণ কর্মচারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা আমাদের সংগ্রামী ভূমিকা অব্যহত রাখছি। সাম্প্রতিক সময়ে আইএমএফ. বিশ্বব্যাংকের প্ররোচনায় ক্রৃতদাস ব্যবস্থার ন্যায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আউট সোর্সিং এর নামে একধরণের নিয়োগ প্রথা চালু করেছে যা কর্মচারীদের পেশাগত জীবনে এক মারাত্বক হুমকি বলে আমরা মনে করছি। আমরা স্পষ্ট কন্ঠে উচ্চারণ করতে চাই এই নিয়োগ পদ্ধতি অমানবিক, প্রজাতন্ত্রের সংবিধান পরিপন্থি। সমন্বয় পরিষদের আন্দোলন, সংগ্রাম ও সীমাহীন আত্নত্যাগের বিনিময়ে এদেশের কর্মচারীদের ভাগ্য উন্নয়নে টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড, উৎসব ভাতা, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, ধোলাই ভাতা, হাসপাতালের সেবিকা নার্সদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পদায়ন, এমএলএসএস পদকে অফিস সহায়ক পদবীতে রুপান্তর, সুইপার/ক্লিনার/ফরাস/ঝাড়ুদার পদবীকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নামকরণসহ অসংখ্য দাবি আদায় হয়েছে।

         কিন্তু বিগত বেতন কাঠামোতে টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রত্যাহার এবং পাহাড়ি ভাতা ৩০% থেকে ১০% কমিয়ে দেওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অধিকন্ত, গত ০৯/০১/২০১৭ ইং তারিখে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে পেনশন নীতিমালা পরিবর্তনপূর্বক এককালীন শতভাগ পেনশন  উত্তোলন প্রথা বিওলুপ্ত করার প্রেক্ষিতে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের চাকুরইজীবনের শেষে প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

          সচিবালয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে জর্জ কোর্ট, ম্যাজিট্রিসীসহ  সকল বিচার বিভাগ, জেলা প্রশাসন সহ সরকারি সকল দপ্তরে পদ-পদবীর পূর্ণ বিণ্যাস করে এক ও অভিন্ন নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়োনের দাবি দীর্ঘ দিনের। সচিবালয়ের  কর্মরত নিম্নপদের কর্মচারীরা উপ-সচিব পর্যন্ত পদোন্নতির সুযোগ পান, কিন্তু একই কর্মে নিয়োজিত একই যোগ্যতা সম্পন্ন মন্ত্রনালয়ের বাইরের কর্মচারীরা ৩০-৩৫ বছর চাকরী করেও পদোন্নতির সুযোগ থেকে বঞ্চিত। সমকাজে সমমর্যাদা ও সমবেতন পৃথিবীর সকল দেশে বিরাজমান। বাংলাদেশেও ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এ ধারা বিদ্যমান ছিল। পরবর্তিতে বিভিন্ন সময়ে সচিবালয় এবং  বিশেষ কিছু দপ্তরে  পদবী পরিবর্তনসহ কতিপয় পদ আপগ্রেড করে দ্বিতীয় শ্রেণির পদ মর্যাদা ও উচ্চস্তর বেতনস্কেল প্রদান করায় সারাদেশে সমপদে সমকাজে নিয়োজিত লক্ষ লক্ষ কর্মচারীদের সাথে বৈষম্য ও বিভাজনের সৃষ্টি করা হয়েছে যার প্রেক্ষিতে কর্মচারী অঙ্গনে মারাত্বক বঞ্চনার ক্ষত বিরাজ করছে।
 

Recent Works


Bangladesh Govt. Employees Coordination Council

Address

৩১/এফ (২য় তলা),

তোপখানা রোড, ঢাকা ।